নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রামের বাকলিয়ায় শিশু ধর্ষণ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও হামলার ঘটনায় ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে থানায় মামলা করেছে পুলিশ। এছাড়া মামলায় আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
বাকলিয়া থানায় দায়ের করা এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২১ মে চার বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে এক আসামিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে তাকে থানায় নেওয়ার সময় স্থানীয়ভাবে সংঘবদ্ধ একটি জনতা পুলিশের ওপর হামলা চালায় এবং আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, প্রথমে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়। পরে অতিরিক্ত পুলিশ, ডিবি, র্যাব ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন।
তবে পুলিশের অনুরোধ উপেক্ষা করে উত্তেজিত জনতা আসামিকে হস্তান্তরের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে এবং একপর্যায়ে পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে পুলিশের একাধিক সদস্য ও কর্মকর্তা আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। একপর্যায়ে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে নিরাপদে স্থানান্তর করা হয়।
এজাহার অনুযায়ী, সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের একটি পিকআপ ভাঙচুর করা হয় এবং পরে একটি পুলিশ ট্রাকে অগ্নিসংযোগ করা হয়। এছাড়া আরও কয়েকটি সরকারি গাড়ি ও একটি কমিউনিটি সেন্টারে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে সরকারি সম্পদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ)সহ একাধিক পুলিশ সদস্য আহত হন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দাঙ্গা, সরকারি কাজে বাধা, হত্যাচেষ্টা, অগ্নিসংযোগ এবং সরকারি সম্পত্তি ক্ষতিসাধনের অভিযোগে ৫৮ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে একাধিক আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ ও তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে শনাক্ত ও আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সিএমপি বাকলিয়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং ঘটনার তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
